পশ্চিমবঙ্গে করোনা ছড়ানোর চক্রান্ত হচ্ছে: মমতা

শেয়ার করুন...

পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসের আক্রমণ নিয়ে বেজায় চিন্তিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল শুক্রবার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে মমতা করোনায় আক্রান্তদের এই রাজ্যে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে রাজ্যজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়ানোর চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা। তিনি এর বিরুদ্ধে সজাগ থাকারও আহ্বান জানান।

মমাতা বলেন, প্রয়োজনে রাজ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এবং আন্তরাজ্য সীমান্ত সিল করে দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও ভারতের রাজ্য ঝাড়খণ্ড, সিকিম, আসাম, ওডিশা ও বিহার রাজ্যের সীমান্ত। এসব সীমান্ত দিয়ে করোনায় আক্রান্তদের ঢুকিয়ে রাজ্যে করোনা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মমতা বলেছেন, ‘লকডাউন চলছে। একটা লোকও যেন বাইরে থেকে এই রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে করোনায় আক্রান্তদের রাজ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেস্টা চলছে। এ নিয়ে কারও কথা শুনবেন না। সব সীমান্ত সিল করে দিন।’

গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারকে বলেন, ‘মনে রাখবেন আপনাদের জেলায় পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। কদিন আগে এই সীমান্ত দিয়ে চারজন ঢুকে পড়েছিল। পুলিশ খেয়াল করেনি। পরে তারা ধরাও পড়ে। অনেকে টাকাপয়সা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন। এ রকম চলবে না। রাস্তা দিয়ে রোগ ছড়াতে ছড়াতে রাজ্যে ঢুকে পড়বে। এটা হবে না। তাই প্রত্যেককে নজর রাখতে হবে। যে ব্যক্তি তাঁদের ছেড়ে দিতে বলবেন, কারও কথা শুনবেন না। সিরিয়াসলি দেখবেন। কোনো ছাড় নয়।’ বসিরহাটেও সীমান্ত রয়েছে। বহু জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। সেখান দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেস্টা চলছে।’

শিলিগুড়ির জেলা প্রশাসনকে মমতা স্মরণ করিয়ে দেন, ‘এই শহর উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। এটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকাও। অনেক বাইরের লোক এখান দিয়ে যাতায়াত করেন। তাই এই এলাকায় কঠোরভাবে লকডাউন করতে হবে। মমতা হুশিয়ারি দেন, ‘ফোন করল আর বাইরের লোক ঢুকিয়ে দেব, এটা হবে না?’

মালদার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মালদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাইরের মানুষ চিকিৎসা করতে আসে। এখানে প্রতিবেশী রাজ্যের সীমান্ত এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তও রয়েছে। সেখান থেকে করোনা রোগীরা এখানে আসবেন আর চিকিৎসা করাবেন এবং করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়াবেন, এটা চলবে না। এখানে বাইরের রোগীদের চিকিৎসা করানো চলবে না, সে তিনি ভিনরাজ্য বা ভিনদেশের নাগরিক হোন না কেন।’

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেছেন, সোমবার তিনি রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ পুরকায়স্থ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র কৃষ্ণকে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্তে এলাকায় পাঠাচ্ছেন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের জন্য। বুধবার তাঁরা ফিরবেন। সেখানের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন তিনি। যদিও ইতিমধ্যে এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের বনগাঁর পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে পাঠিয়েছিলেন।


শেয়ার করুন...