২০২৪ সালের মধ্যে করোনার পুনরুত্থান

শেয়ার করুন...

নতুন করোনাভাইরাস মহামারির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলেও ২০২৪ সালের শেষের দিক পর্যন্ত এই ভাইরাসটি আরেকবার পুনরুত্থান ঘটাতে পারে। এছাড়া বর্তমান মহামারির লাগাম টানার জন্য আগামী ২০২২ সাল পর্যন্তও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা লাগতে পারে। বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক করোনাভাইরাস নিয়ে নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য জানিয়েছেন।

হার্ভার্ডের গবেষকদের এই তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করোনা নিয়ে পূর্বাভাষের সম্পূর্ণ বিপরীত। চলতি মাসের শেষের দিকে দেশটির কিছু প্রদেশে সামাজিক দূরত্ব সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হার্ভার্ডের টিএইচ চ্যান স্কুলের পাঁচ গবেষকের ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী চার বছরের মধ্যে আরও একবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দুই বছর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার দরকার আছে কিনা, সেব্যাপারে গবেষকরা সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

তবে তারা বলেছেন, ভ্যাকসিন কিংবা প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অথবা আশঙ্কাজনক সেবা সক্ষমতা বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত ২০২২ সাল অবধি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হতে পারে।

ভাইরাসটির বৈজ্ঞানিক নাম উল্লেখ করে মার্কিন এই গবেষকরা বলেছেন, এমনকি আপাত নির্মূল হলেও সার্স-কোভ-২ নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে। ২০২৪ সালের শেষের দিক পর্যন্ত এই ভাইরাস পুনঃসংক্রমণ ঘটাতে পারে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের শত শত দেশে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দেশে দেশে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনসমাগম, ব্যবসা-বাণিজ্য, হোটেল-রেস্তারাঁ।

করোনা মহামারির কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মারা গেছেন এক লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখের কাছাকাছি।

এই মহামারিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪৮ এবং মারা গেছেন ২৮ হাজার ৫৫৪ জন; যা বিশ্বের ২২০টি দেশ ও অঞ্চলে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ভাইরাসটির সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময় এখন পার হয়ে যায়নি। এদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বলেছে, এই ভাইরাস মহামারির কারণে ১৯৩০ সালের পর বিশ্ব অর্থনীতি সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এই ভাইরাসের উৎপত্তি হওয়ার পর বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাস লাখো মানুষের প্রাণ কাড়লেও চীনে মারা গেছেন তিন হাজার ৩৪২ জন।

চীন এই ভাইরাস মাত্র ৭৯ দিনে নিয়ন্ত্রণে আনার পর গত মঙ্গলবার উহান থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সেখানে স্বাভাবিক জীবন ও কর্মচাঞ্চল্য শুরু হলেও বিশ্ব এক তৃতীয়াংশ মানুষ এখন অবরুদ্ধ দশায় রয়েছে।


শেয়ার করুন...