ডাকযোগে ভোট পরাজয় আতঙ্কে ট্রাম্প

শেয়ার করুন...

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে চলছে আলোচনা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বাস, এভাবে নির্বাচন হলে তাতে রিপাবলিকানদের হারার আশঙ্কা প্রবল। তাই তিনি ডাকযোগে ভোট নেওয়ার প্রবল বিরোধিতা করছেন।

গত মঙ্গলবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারিতে অল্প কয়েকটি ভোটকেন্দ্র বসানো হয়। মহামারির আতঙ্কে লোকসংখ্যাও ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু ভোটাররা পরস্পরের সঙ্গে ছয় ফুট করে দূরত্ব বজায় রাখায় সারিগুলো হয়েছিল দীর্ঘ। উইসকনসিনের এমন চিত্র দৃশ্যমান হওয়ার পর নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশজুড়ে ডাকযোগে ভোট প্রদান পদ্ধতি চালুর পক্ষে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প তাতে মোটেই রাজি নন। তাঁর ভাষ্য, ‘ডাকভোট আমাদের দেশের জন্য খুবই বিপজ্জনক জিনিস, কারণ ওগুলো প্রবঞ্চক।’ এ রকম ভোটে জোচ্চুরি ঘটে, এমন দাবি তো আছেই, সেই সঙ্গে ট্রাম্পের আছে আরো আশঙ্কা। তাঁর ধারণা, ঘরে বসে থেকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুবিধা পেলে নির্বাচনে তুলনামূলক বেশি ভোট পড়বে এবং ওই বাড়তি ভোটাররা আসলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থক। সেই আশঙ্কা থেকে তিনি টুইটারে আরো লিখেছেন, ‘সব অঙ্গরাজ্যে ডাকভোটের প্রসঙ্গ উঠলে রিপালিকানদের শক্ত বিরোধিতা করা উচিত। কারণ যা-ই হোক, ওই পদ্ধতি রিপাবলিকানদের জন্য মঙ্গলজনক নয়।’

ডাকযোগে ভোটগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের ম্যাথিউ হারউড বলেন, ‘এ বছর কারা ডাকযোগে ভোট দিতে পারবে, সেটা নির্দিষ্ট করে দিলে অনর্থক জটিলতা বাড়বে আর সেই সঙ্গে জনগণকে অনর্থক করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকভোটের প্রচলন রয়েছে কয়েক দশক ধরে। নির্বাচনকালে দেশের বাইরে থাকা হাজার হাজার কূটনীতিক ও সেনা কর্মকর্তারা এভাবেই ভোট দেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে পাঁচটিতে ডাকভোটের ব্যবস্থা পূর্ণমাত্রায় কার্যকর। এ ছাড়া বেশির ভাগ রাজ্যে ওই ব্যবস্থা আংশিক কার্যকর। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২৪ শতাংশ ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বানে ওই হার বেড়ে ২৬ শতাংশে দাঁড়ায়। পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে অর্ধেকের বেশি ভোটার সে সময় ডাকযোগে ভোট দেয়।

সমালোচকরা অবশ্য মনে করে, ডাকভোট গ্রহণে সমস্যা অনেক বেশি। ডাকযোগে ভোট পৌঁছতে দেরি হওয়া, পরিচয় শনাক্তকরণে ও গ্রহণযোগ্যতায় সমস্যা দেখা দেওয়ার মতো নানা সংকটের কারণে অনেক ভোট বাতিল হয়ে যায়। আছে ভোট কারচুপির আশঙ্কাও।

অন্যদিকে ডাকভোটের সমর্থকদের অভিমত, যেসব অঙ্গরাজ্যে ডাকভোট গ্রহণের ওপর বেশির জোর দেওয়া হয়, সেসব জায়গায় ভোট বাতিলের হার তুলনামূলক কম। আর এ পদ্ধতিতে নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও বাড়ে।


শেয়ার করুন...